শেষ মিনিটে বাংলাদেশের নাটকীয় জয়

by  ডেস???ক রিপোর???টার | | Friday 3rd November 2017 |10:28 AM

শেষ মিনিটে বাংলাদেশের নাটকীয় জয়

কোচের কথা মতোই কি দল কাজ করছে ? একের পর এক সাফল্য আসছে তাঁর হাত ধরে । তাঁর দেয়া দিক নির্দেশনা অনুযায়ী খেলে বাংলাদেশ গতকাল ও সাফল্য পায় ।‘মিস-মাস্টার’ হয়ে গেলেন জয়ের নায়ক। মাহবুবুর রহমান সুফিলের গোল মিসের বদ-অভ্যাস আছে, সেই অপকীর্তি ভুলে গতকাল খুব প্রয়োজনের সময় গোল করে দারুণ সুখ্যাতি কুড়িয়েছেন।

৯০ মিনিটে তাঁর মহামূল্য গোলে যেন অতীতের সব ভুলের মাসুল দেওয়া হয়ে গেছে। এই গোলের জয়ধ্বনিতে ভেসে গেছে অতীতের সব ব্যর্থতা। তাঁর একমাত্র গোলে মালদ্বীপকে হারিয়ে বাংলাদেশ প্রথম জয় পেয়েছে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবলে

ম্যাচটা এক গোলে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা ছিল না। শক্তি-সামর্থ্যের বিশ্লেষণে ব্যবধান আরো বড় হওয়াই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু ফুটবল ম্যাচ তো সব সময় হিসাব করা পথে এগোয় না। ছোট দলের বিপক্ষেও সব গুলিয়ে যায়। মালদ্বীপের বিপক্ষে তাই দল পুরোপুরি বিপথগামী হওয়ার আগে মাহবুবুর রহমানের পথে ফেরানোটাই কোচের জন্য বড় তৃপ্তির। ‘সুফিল গোল মিস করে; কিন্তু আজ (কাল) কেন যেন আমার মনে হচ্ছিল তাকে দিয়েই হবে।

দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হয়ে নামার পর পর কয়েকটা মিস করলেও শেষ পর্যন্ত সে-ই তিন পয়েন্ট উপহার দিয়েছে আমাদের। সবাই ম্যাচটাকে সহজভাবে নিয়েছিল, খেলার আগেই জিতে যাওয়ার মতো আত্মবিশ্বাস ছিল তাদের। সেটাই ভুগিয়েছে আমাদের, সবাই গোলের মিসের মহড়া দিয়েছে। চূড়ান্ত আধিপত্য বিস্তারের পরও আমাদের গোলের জন্য ৯০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে’—শেষ মুহূর্তের গোলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন বাংলাদেশ কোচ মাহবুবুর হোসেন রক্সি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে উইঙ্গার রহিমের জায়গায় নামেন মাহবুবুর রহমান। তিন মিনিট বাদেই বদলি ফরোয়ার্ডের সামনে সহজ গোলের হাতছানি। সামনে শুধুই মালদ্বীপের গোলরক্ষক, তার পরও বলটা মেরেছেন তিনি বাইরে। আরো দুটি মিসের পর ৯০ মিনিটে তৈরি হয় দারুণ এক মুভ। মাঝ মাঠ থেকে বিপলু আহমেদের পা ঘুরে যাওয়া বলে জাফর ইকবালের দুর্দান্ত শট গ্রিপ করতে পারেননি মালদ্বীপের গোলরক্ষক। গ্রিপ ফসকে যাওয়া বলটি মাহবুবুর রহমান মালদ্বীপের জালে পৌঁছে দিয়ে আনন্দের জোয়ার বইয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ শিবিরে। ড্র ম্যাচ জিতিয়েছেন আরামবাগের এই বদলি ফরোয়ার্ড, ‘কোচের বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে পেরেছি। ওদের ১১ জনের ডিফেন্সের চ্যালেঞ্জ জয় করে শেষ পর্যন্ত গোল করে দলকে জিতিয়েছি। এটা আমার ক্যারিয়ারের স্মরণীয় গোল। ’ তাজিকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ ড্রয়ের পর বাংলাদেশ কাল দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পেয়েছে মালদ্বীপের বিপক্ষে।  

মালদ্বীপের বিপক্ষে শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল বাংলাদেশের। খেলা হয়েছে বাংলাদেশ বনাম মালদ্বীপ গোলরক্ষকের। ওরা ১০ জন মিলে ডিফেন্স করেছে। এর মধ্যেও বিপলু, জাফর, স্বাধীন প্রথমার্ধে এত সুযোগ নষ্ট না করলে ম্যাচটা এত কঠিন হয় না। জাফর ইকবাল ওয়ান-টু-ওয়ানে বল জালে পাঠাতে পারেননি। তারপর স্বাধীনের শট গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দিয়েছে মালদ্বীপের এক ডিফেন্ডার। দ্বিতীয়ার্ধে কর্নার কিক পরবর্তী জটলা থেকে জাফরের শট গোললাইন অতিক্রমণ করেছে মনে হলেও রেফারি গোল দেননি। বাংলাদেশ কোচের বিশ্লেষণে এই ম্যাচ জেতা উচিত ছিল বড় ব্যবধানে, ‘আমি জানতাম, ম্যাচ আমরাই নিয়ন্ত্রণ করব। তবে গোল করা যে এত কঠিন হয়ে যাবে ভাবিনি। প্রথমার্ধেই অন্তত চার গোল হতে পারত। ওয়ান-টু-ওয়ানে মিস হয়েছে। গোলকিপারের গায়ে লেগে ফিরে এসেছে। প্রথমার্ধে একটা গোল হয়ে গেলে আমরা নিশ্চিতভাবে দ্বিতীয়ার্ধে আরো তিন-চারটি গোল বের করে ফেলতাম। ’ তাতে গোল গড়ে এগিয়ে থাকত বাংলাদেশ। ওদিকে গ্রুপের অন্য ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে উজবেকিস্তান। এখন চার পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ পয়েন্ট তালিকায় এগিয়ে থাকলেও শেষ দিকে গোল-গড়ের হিসাব না মুখ্য হয়ে যায়। বাংলাদেশ যে অন্তত সেরা ৫ রানার্স-আপ দলে থেকে চূড়ান্ত পর্বে যেতে চায়।

আগামী ৬ নভেম্বর বাংলাদেশ তৃতীয় ম্যাচ খেলবে ফেভারিট উজবেকিস্তানের সঙ্গে। এখানেও কৌশল আর লড়াকু মনোভাবকে প্রাধান্য দিচ্ছেন বাংলাদেশ কোচ, ‘এই লেভেলে উজবেকিস্তান সব সময় শক্তিশালী। শ্রীলঙ্কা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গোল খেলেও বাংলাদেশ ওই ফুটবল খেলবে না। মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচের পর আরেকবার প্রমাণিত হলো, এই দল ৯০ মিনিট মিনিট লড়াই করে গোল দিতে পারে। আমাদের ফুটবলের একটা বড় রোগ ছিল, ৬০-৭০ মিনিটের পর আমরা খেলতে পারতাম না।   দাঁড়িয়ে যেত দল। এ দলটি ব্যতিক্রম। সাফেও আমরা করে দেখিয়েছি, এখানেও তা প্রমাণ করলাম। ’ বাকি দুই ম্যাচে বাংলাদেশ এই লড়াকু মেজাজ ধরে রাখতে পারলেই হয়।

মন্তব্য
  1. image
    Aaron Miller

    good
    2 min

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন