নোয়াখালীর ভাসানচরে পাঠানো হবে রোহিঙ্গা

by  ডেস্ক রিপোর্টার | | Monday 20th November 2017 |10:32 PM

নোয়াখালীর ভাসানচরে পাঠানো হবে রোহিঙ্গা

গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেওয়া এক লাখ রোহিঙ্গাকে স্থানান্তর করা হবে নোয়াখালী জেলার হাতিয়া থানার চরঈশ্বর ইউনিয়নের ভাসানচরে। মিয়ানমার থেকে কক্সবাজারে আসা রোহিঙ্গাদের যদি এক বছরের মধ্যে ফিরিয়ে নেয়া না হয়, তবে তাদেরকে মধ্য মেয়াদে নোয়াখালীর ভাসান চরে রাখা হবে।এর আগে বাংলাদেশ থেকে সম্প্রতি ফিরে যাওয়া জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার প্রধান ফিলিপ্পো গ্রান্ডি বলেন, এখনো পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় এবং ত্রাণের বিষয়ে যা কাজ হয়েছে তা সাময়িক এবং মধ্যমেয়াদে এর একটি সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন।

এতে মোট ব্যয় হবে দুই হাজার ৩১২ কোটি টাকা। পুরো অর্থই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করার কথা প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে।

 প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এরই মধ্যে বিশদ প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করেছে। গতকাল রবিবার পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য এ এন সামসুদ্দিন আজাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা হয়েছে ওই প্রকল্প নিয়ে।

প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালের অক্টোবর নাগাদ ওই চরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরই মধ্যে প্রকল্পটির নীতিগত অনুমোদন ও সম্মতি দিয়েছেন। মিয়ানমার থেকে এসে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের পর এই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত আবাসনগুলোতে দেশের ভূমিহীন দরিদ্র নাগরিকদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন শুরু করার পর থেকে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে থেকেই প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছিল। রোহিঙ্গাদের ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয়ভাবে আলোচনা চালালেও কোনো সুফল মিলছে না। বরং চীন, রাশিয়া ও জাপানের মতো প্রভাবশালী দেশগুলো মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় রোহিঙ্গা সংকট আরো দীর্ঘায়িত হবে বলে আশঙ্কা করছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা।

গতকাল সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘আমরা এখনো বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতায় রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে মিয়ানমার। তবে কাজটি বেশ কঠিন। বিশ্বের অনেক দেশই এমন কথা বলছে। 

গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টার নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল ভাসানচর পরিদর্শন করে। পরিদর্শনকালে দেখা যায়, সেখানে বর্তমানে কোনো স্থায়ী জনবসতি নেই। তবে ওই চরে প্রায় আট হাজার মহিষ পালন করা হচ্ছে। ১৫-২০ জন রাখাল অস্থায়ী আবাস গড়ে বসবাস করছে ওই দ্বীপচরে।

মন্তব্য
  1. image
    Aaron Miller

    good
    2 min

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন