বাংলাদেশের পক???ষে থাকবে জাপান ,৩০ টি দেশ বাংলাদেশের পক???ষে

by  ডেস???ক রিপোর???টার | | Monday 20th November 2017 |11:54 PM

 বাংলাদেশের পক???ষে থাকবে জাপান ,৩০ টি দেশ বাংলাদেশের পক???ষে

জেনেভায় ৪৭ সদস্যের ওই কাউন্সিলে ভোটাভুটি হবে আগামী মাসের শুরুতে। বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দেবে জাপান । জাপান বাংলাদেশকে শুরু থেকেই সাহায্য করে আসছে । দুর্দিনে জাপান বাংলাদেশের কেমন বন্ধু সেটা সবাই ভাল করেই জানে । যুদ্ধের সময় তাঁদের অবধান ভুলবে না বাংলাদেশ ।

সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সমপ্রদায়কে জাতিগতভাবে নিধনে গণহত্যা, গণধর্ষণ এবং বাছবিচারহীন নির্যাতনের অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে (কান্ট্রি স্পেসিফিক) রেজুলেশন আনতে ১৬ সদস্য দেশের সমর্থন প্রয়োজন। রেজুলেশনটি পাস হতে হয় সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, জেনেভাস্থ জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে প্রস্তাবিত রেজুলেশনের পক্ষে এরইমধ্যে বাংলাদেশ ৩০টি দেশের সমর্থন আদায়ে সক্ষম হয়েছে। যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে জাপান।

থার্ড কমিটির বৈঠকে জাপান ভোট না দিলেও ঢাকা সফরকারী জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কুনো জেনেভার ভোটাভুটিতে রোহিঙ্গা বিষয়ক প্রস্তাবের পক্ষে টোকিওর সমর্থন থাকবে বলে নিশ্চিত করে গেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে গতকাল সকালে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, জাপান বাংলাদেশের কেবল দুর্দিনের বন্ধুই নয়, স্বাধীনতার পর থেকে অব্যাহতভাবে দেশের উন্নয়নে টোকিও সহায়তা দিয়ে আসছে। আগামী দিনেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং মানবিক সংকট মোকাবিলায় জাপান বাংলাদেশের পাশে থাকছে বলে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে গেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ বিষয়ে আলোচনায় মন্ত্রী তারো কুনো বাংলাদেশ-মিয়ানমার দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ক সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতিকে স্বাগত জানিয়েছেন।
ঢাকার কর্মকর্তারা বলছেন, রোহিঙ্গা সংকট প্রশ্নে আগামী মাসটি বাংলাদেশের কূটনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্লিনারি সেশন বসছে। সেখানে থার্ড কমিটিতে পাস হওয়া প্রস্তাবটি ফের পাস করাতে হবে। সেখানে ১৯৩ রাষ্ট্রের ওপেন ভোট হবে। বাংলাদেশ চেষ্টা করছে থার্ড কমিটিতে ১৩৫-১০ ভোটে যেভাবে রেজুলেশনটি পাস হয়েছে প্লিনারি সেশনে তারচেয়ে বেশি ভোট আদায়ে। এ জন্য বাংলাদেশ জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্রের কাছে ধরনা দিচ্ছে। মিয়ানমারও একইভাবে প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট বাড়ানোর চেষ্টায় থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। জাতিসংঘের ওই ভোটিং প্রক্রিয়া ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণে রয়েছে এমন অন্তত ৩ জন দেশীয় কূটনীতিক গতকাল  বলেন, থার্ড কমিটির পর প্লিনারি সেশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। থার্ড কমিটিতে কেউ সরাসরি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। সেই সংখ্যা ১৩৫। রেজুলেশনের বিরুদ্ধে ভোট পড়েছে ১০। ইচ্ছাকৃতভাবে ভোট প্রদান থেকে বিরত থেকেছে ২৬টি দেশ। ২২টি দেশ অনুপস্থিত ছিল। গত বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে গৃহীত ওই প্রস্তাবে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অব্যাহত সামরিক তৎপরতা বন্ধ এবং তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচার দাবি করা হয়েছে। এছাড়া পরিস্থিতি সরজমিন পরিদর্শনের জন্য মানবাধিকার কাউন্সিলের একটি তথ্যানুসন্ধানী দল প্রেরণ এবং মিয়ানমার প্রশ্নে একজন বিশেষ প্রতিনিধি নিয়োগেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। ওই প্রস্তাবে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী ও বন্ধু কয়েকটি দেশের সমর্থন না পাওয়ায় ঢাকার মিয়ানমার নীতি বা কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রস্তাবে যে ১০টি দেশ সরাসরি বিপক্ষে ভোট দিয়েছে তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে রাশিয়া এবং চীন। আর ঐতিহাসিক বন্ধু ও ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী ভারত ভোট প্রদান থেকে বিরত থেকেছে। রোহিঙ্গা সংকটের মতো এ বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ওই ৩ দেশসহ বন্ধু-উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলোর সহযোগিতা চেয়ে আসছে। ভোটাভুটিতে অবাক করা কাণ্ড হলো সার্কভুক্ত দেশ নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভুটানও বাংলাদেশকে ভোট দেয়নি। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ভোট প্রদান থেকে বিরত থেকেছে। ওই দেশগুলো যেকোনো সংকটে বাংলাদেশের পাশে থাকে। থার্ড কমিটির বৈঠকে ‘মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শিরোনামে ৫৮ মুসলিম রাষ্ট্রের জোট ওআইসি উত্থাপিত প্রস্তাবটি বিপুল ভোটের ব্যবধানে পাস হলেও বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বিশেষ করে ভারত, রাশিয়া, চীন ও সার্কভুক্ত (পাকিস্তান ও মালদ্বীপ অবশ্য পক্ষে ভোট দিয়েছে) দেশগুলোর সমর্থন আদায়ে ব্যর্থতাকে কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।  কর্মকর্তারা বলছেন, কূটনৈতিক উদ্যোগ ছাড়া ১৩৫টি দেশ এমনি এমনি প্রস্তাবটি পাসের পক্ষে ভোট দেয়নি

মন্তব্য
  1. image
    Aaron Miller

    good
    2 min

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন